Responsive HTML5 Website Template for Developers | 3rd Wave Media

ইউরিয়ার বিকল্প জীবাণু সার

কৃষিপণ্যের উধর্বমূল্যের বাজারে আশার আলো দেখাবে জীবাণু সার। ডাল জাতীয় শস্যের জমিতে সার ব্যবহার করলে ইউরিয়ার দরকার হবে না। পাশাপাশি ধানের জমিতে জীবাণু সার ব্যবহার করলে ইউরিয়ার সাশ্রয় হবে শতকরা ২৫ ভাগ। প্রায় ৫০ কেজি ইউরিয়া সারের কাজ করে দেয় মাত্র এক কেজি জীবাণু সার যার উৎপাদন খরচ হয় মাত্র ৭৫ টাকা। বাংলাদেশের ধান ডাল জাতীয় শস্যের জমিতে জীবাণু সার প্রয়োগ নিয়মিত করলে রাষ্ট্রের ইউরিয়া সারের আমদানি সাশ্রয় হবে প্রায় হাজার ৩০০ কোটি টাকা। এমনই আশাবাদ পোষণ করেন কৃষি বিশেজ্ঞরা। 

প্রতি বছর বাংলাদেশে ডাল জাতীয় শস্য চাষে প্রায় ২৮ হাজার মেট্টিকটন এবং ধান চাষে প্রায় ২৩ লাখ মেট্টিকটন ইউরিয়া ব্যবহৃত হয়। ধান চাষে ব্যবহৃত হলে প্রায় ছয় লাখ ২৮ হাজার মেট্টিকটন ইউরিয়া সাশ্রয় হবে। পরিমাণ ইউরিয়ার আমদানিতে খরচ পড়ে প্রায় এক হাজার ৩০০ কোটি টাকা। আর উল্লেখিত পরিমাণ ইউরিয়া সাশ্রয় করতে জমিতে প্রয়োগ করতে হবে মাত্র সাড়ে হাজার মেট্টিকটন জীবাণু সার, যার মূল্য পড়বে ৫০ কোটি টাকা। অথার্ৎ, জীবাণু সার ব্যবহার করলে রাষ্ট্রের প্রতি বছর প্রায় এক হাজার ৩০০ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে। 

জীবাণু সার: যে জীবাণু সার হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে উদ্ভিদের পুষ্টি উপাদানের যোগান দিতে পারে সেটা হল জীবাণু সার। প্রধানত পাঁচ প্রকারের জীবাণু রয়েছে_ ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক, অ্যাকটিনোমাইসিটিস, শেওলা এবং প্রোটোজোয়া। জীবাণু ব্যবহার করে সাধারণত তিন ধরনের জীবাণু সার তৈরি করা যায়। সারগুলো হচ্ছে- নাইট্রোজেন সংবন্ধনকারী জীবাণু সার, ফসফরাস দ্রবীভূতকারী জীবাণু সার এবং কমপোস্ট তৈরিকারী জীবাণু সার। 

জীবাণু সার নিয়ে গবেষণা করছে বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট। প্রায় চার দশকের গবেষণায় বিনার উদ্ভাবন ৭টি ডাল জাতীয় শস্যের জীবাণু সার। এসব জীবাণু সার ২০০১ সালে সরকারের অনুমোদন লাভ করে। বর্তমানে সার কৃষক পর্যায়ে বিপণন করা হচ্ছে। এছাড়া ধানের জন্য যে জীবাণু সার প্রতিষ্ঠান উদ্ভাবন করেছে তা সরকারের অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় চীনাবাদাম সয়াবিনের জন্য এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মসুরের জন্য জীবাণু সার উদ্ভাবন করলেও এখন পর্যন-- তা কৃষক পর্যায়ে পৌছায়নি। 

বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা) এর জীবাণু সার বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকতা . এম. . সাত্তার জানান, হেক্টর প্রতি মসুরের জন্য ৫০, ছোলার জন্য ৫০, মুগ ডালের জন্য ৩০, মাষকলাইয়ের জন্য ৩০, বরবটির জন্য ৪০ এবং সয়াবিনের জন্য ৬০ থেকে ৭০ কেজি ইউরিয়া লাগে। অপরদিকে একই পরিমাণ জমিতে মসুরের জন্য ., ছোলার জন্য , মুগ ডালের জন্য ., খেসাড়ির জন্য , বরবটির জন্য . কেজি জীবাণু সারের প্রয়োজন হয় 

বাংলাদেশে প্রথম জীবাণু সারের উদ্ভাবক বিশিষ্ট মৃত্তিকা বিজ্ঞানী প্রফেসর . মোশাররফ হোসেন মিঞা জীবাণু সার বিষয়ে বলেন, বাংলাদেশের মাটিতে জৈব পদার্থ কম এবং তা দিন দিন আরও কমছে। অবস্থায়, শুধুমাত্র ইউরিয়ামুখী না হয়ে জীবাণু সারের প্রসারে মাধ্যমে সরকার একদিকে যেমন কৃষি উপকরণে ভর্তুকি কমাতে পারে অন্যদিকে মাটিতে জৈব পদার্থের ঘাটতি পূরণ করতে পারে। 

জীবাণু সার তৈরিতে আগ্রহীদের সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা দরকার। সরকারিভাবে জীবাণু সার কারখানা প্রতিষ্ঠা অথবা বে-সরকারিভাবে সার কারখানা প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতা করতে হবে। বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশনের আদলে ডিলারশিপের মাধ্যমে কৃষকের নাগালে জীবাণু সার পৌছে দিতে হবে। দেশে